প্রথম খণ্ড: অতিপ্রাকৃতের পুনর্জাগরণ দশম অধ্যায়: ভূতের রাজ্য (সংরক্ষণের অনুরোধ)

বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক নিঃশঙ্ক হাতি 2493শব্দ 2026-03-06 03:32:30

余 সেন হঠাৎই চোখ মেলে তাকাল, বিস্ময়ে ভরা মুখে লাল পোশাকের মেয়েটির দিকে চাইল। দু’জনের দৃষ্টি মুহূর্তের জন্য একে অপরের সঙ্গে মিশে গেল।
সে সঙ্গে সঙ্গে আবার চোখ বন্ধ করল, কাঁপা স্বরে বলল, ‘‘তুমি... কে?’’
‘‘আ সেন...’’
পরিচিত কণ্ঠস্বরটি আবার ভেসে এল, শীতল এক হাত তার হাতে কাগজে মোড়ানো কিছু গুঁজে দিল।
দশ বছরেরও বেশি সময় সঙ্গে কাটানোর পর, সে এই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে এতটাই পরিচিত যে ভুল হওয়ার উপায় নেই।
তবে কি এতদিন যাকে মা ভেবেছিল, সে কেবলই তার কল্পনা!
সে আবার চোখ খুলল, বিস্ময়ে কুঁচকে যাওয়া কাগজের দিকে তাকাল।
ধীরে ধীরে খুলে দেখল, সেটি একটি ভাঁজ করা একশ টাকার নোট, যার অর্থ সে কিছুতেই ভেবে পেল না।
‘‘তুমি আমাকে টাকা দিলে কেন?’’
লাল পোশাকের মেয়ে কিছু বলল না, চোখ দু’টো উজ্জ্বল হয়ে উঠল, ইশারায় তার পকেটের দিকে নির্দেশ করল।
আ সেন পকেটে হাত দিয়ে খুচরো বের করল, কিন্তু আরেকটা একশ টাকার নোট কখন যেন উধাও!
কিন্তু কিভাবে সেটা তার হাতে এল?
‘‘তুমি কি শুধু এই কারণেই আমাকে খুঁজে পেয়েছিলে?’’ সে হাতে থাকা টাকাটা নাড়াতে নাড়াতে জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল, তারপর আবার নাড়ল, ঠোঁট নড়ল, হয়তো কিছু বলার চেষ্টা করছিল।
আ সেন দ্রুত চোখ বন্ধ করল, সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটির কণ্ঠস্বর শুনতে পেল।
‘‘একজন খারাপ লোক তোমার টাকা চুরি করেছে।’’
‘‘সেই গাড়িটা... খুব বিপজ্জনক!’’
এতক্ষণে সে নিশ্চিত হল, এই মেয়ে-ই সেই, যে এতদিন তার পাশে ছিল।
কিন্তু ঠিক কবে থেকে, সে মনে করতে পারছিল না...
ছোটবেলায় সে তখনো অন্ধ জীবনে অভ্যস্ত হয়নি, চারপাশের জগত ছিল অস্পষ্ট।
আ সেন চোখ খুলল, জটিল দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকাল।
হঠাৎ দুই হাতে ওকে জড়িয়ে ধরল, যদিও জানত, ও আসলে মানুষ নয়...
তবুও অনুভূতি সুখকর নয়, যেন শীতল কোনো মৃতদেহকে জড়িয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা, নেই কোনো শ্বাস, নেই কোনো হৃদস্পন্দন।
ঠিক তখনই মাথার ভেতরে সেই বরফঠান্ডা কণ্ঠস্বর বাজল—
[লালের মৃত্যু তোমার সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িত...]
[সেই ভয়াবহ স্মৃতি তুমি ভুলে গেছো।]
[মিংদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাও, চোখ বন্ধ করো, অতীতকে শুনতে পাবে! (ভীতিকর)]

আ সেনের নাসারন্ধ্রে ঠাণ্ডা ঘাম ঝরল, মিংদে প্রাথমিক বিদ্যালয় তারই স্কুল ছিল।
কিন্তু তার স্মৃতিতে সেই সময়ের কিছুই নেই, বরং স্মরণ করতে গেলেই মাথা ধরে যায়।
এই প্রশ্নটা বহুদিন ধরে ওকে কুরে কুরে খেয়েছে, তবে এখন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা এত সরল নয়…
এবার আবার নতুন একটি শব্দ: ভীতিকর?
আতঙ্ক, ভয়, ভীতিকর—
বিপদের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে…
যদি মৃত্যুর বাসটাই ভয়ের মাত্রা হয়, তবে এ ভীতিকর মাত্রা হয়তো আরও বিপজ্জনক।
আ সেন ভুরু কুঁচকে চোখ বন্ধ করল, ‘‘তোমার নাম... লাল?’’
‘‘হুঁ।’’
‘‘এই এতদিনের যত্নের জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু আমাকে এখনই পূর্ব শহরে যেতে হবে!’’
বলতেই বুকের মধ্যে থাকা শীতল অনুভূতিটা হঠাৎ মিলিয়ে গেল।
আ সেন তড়িঘড়ি করে চোখ মেলে চারপাশে তাকাল, কিন্তু লাল পোশাকের মেয়েটি আর নেই।
হাতে কুঁচকে যাওয়া একশ টাকার নোটের দিকে তাকিয়ে সে অসহায়ের মতো মাথা নাড়ল।
মনে মনে বলল: আগে শহরে গিয়ে বাবার খোঁজ নিই, তারপর মিংদে স্কুলে যাব…
‘‘আহা! আমি তো ওই ছেলেটার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।’’
আ সেন কপালে চাপড় দিল, তাড়াতাড়ি মোবাইল বের করে ডিং লেই-কে ফোন করল।
মাত্র দু’বার বেজে উঠল, ওপাশে ডিং লেই ধরল, ‘‘তাহলে কি ঠিক করলে, আমাদের সংস্থায় যোগ দেবে?’’
‘‘না, আসলে এক ছেলেকে চিনি, পেই স্যুয়ান, সে মৃত্যুর বাসে আটকা পড়েছে, আমাকে সাহায্যের জন্য বলেছিল!’’
‘‘পেই স্যুয়ান? চিন্তা নেই, সে মরবে না…’’
ডিং লেই-র গলায় বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই। ছেলেটি যদিও সি-শ্রেণির ভূত-শাসক,
তবু একবার এ-শ্রেণির এক ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল, যেখানে ভয়ঙ্কর ভূতের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল।
তখন থেকেই নিজেকে ‘অমর পেই স্যুয়ান’ বলে দাবি করে, যদিও বেশ ছেলেমানুষি, কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর কৌশলে সবার সেরা।
‘‘আমার মনে হচ্ছে ব্যাপারটা তত সহজ নয়, ওইটা তো নরকের দিকে যাওয়া বাস, যাত্রী সবাই ভূত… আমিও হাজার কষ্টে পালিয়ে এসেছি।’’
নিজে না দেখলে বোঝা যায় না, তবে শুনে মনে হচ্ছে পেই স্যুয়ান সত্যিই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবে।
ভয়টা শুধু এই যে, অদ্ভুত সংস্থার লোকরা পাত্তা না দিলে, সে হয়তো বাঁচার আগেই আটকা পড়ে মারা যাবে…
‘‘ওই বাসের আমাদের সংস্থায় রেকর্ড আছে, মনে হয় সি-শ্রেণিরই হওয়া উচিত...’’
ডিং লেই একটু অবাক, আ সেনের বর্ণনা অনুযায়ী সেটার গ্রেড আরও বেশি হওয়া উচিত।
‘‘এটা আমার জানা নেই, কথা বলে দিয়েছি, আমি এখনই পূর্ব শহরে যাচ্ছি, দেখা হবে!’’

বলেই আ সেন ফোন রাখার প্রস্তুতি নিল।
‘‘দাঁড়াও!’’ হঠাৎই ডিং লেই চেঁচিয়ে উঠল, ‘‘পূর্ব শহর? ওখানে যাচ্ছ? তুমি কোথায় আছো এখন?’’
কণ্ঠে উদ্বেগ শুনে আ সেন আবার ফোন কানে ধরল।
‘‘ওখানে বাবার খোঁজ পেয়েছি…’’
‘‘কিন্তু ওখানে বিশাল আকারের অশরীরী ঘটনা ঘটছে, গ্রেড এ-রও ওপরে! তোমার যাওয়া ঠিক হবে না!’’
আ সেনের মুখের ভাব পাল্টে গেল, কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘‘তোমাদের ওই গ্রেড আসলে ঠিক কোন মানদণ্ডে হয়?’’
‘‘তুমি কি ওই বাস থেকে নেমে এসেছ? এখন কোথায়? আমি গাড়ি নিয়ে আসছি, সামনাসামনি কথা বলব!’’
‘‘চাং’আন স্টেশন।’’ আ সেন চারপাশে তাকাল, কিছুটা দূরে বড় অক্ষরে লেখা স্টেশনের নাম দেখতে পেল।
‘‘ভালো! ওখানেই থাকো।’ বলেই ডিং লেই ফোন রেখে দৌড়ে গাড়ির গ্যারাজের দিকে চলে গেল।
আ সেন একটু থেমে মোবাইল নামিয়ে চাং’আন স্টেশনের দিকে হাঁটা দিল।
দশ মিনিট পর, একটি গোলাপি রঙের আড়ম্বর গাড়ি দ্রুত ছুটে এল, বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করল।
জনতার মধ্যে ডিং লেই দ্রুত আ সেনকে খুঁজে বের করল, জানালা থেকে মাথা বের করে ডাকল, ‘‘চলে এসো!’’
সবার সামনে আ সেন সাবধানে গাড়িতে উঠল।
ইঞ্জিনের গর্জন, মুহূর্তেই গাড়িটি উধাও, লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
‘‘গাড়িটা নিশ্চয়ই সস্তা নয়…’’ আ সেন গাড়ির বিলাসবহুল সাজসজ্জা দেখে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল।
‘‘সংস্থার দেওয়া গাড়ি, সব সদস্যই পায়, তুমি যোগ দিলে আরও ভালো গাড়ি পাবে!’’ ডিং লেই পাশ থেকে গভীর অর্থে বলল।
‘‘এগুলো পরে দেখা যাবে, আগে পূর্ব শহর যাই।’’ আ সেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ডিং লেই মুখ গম্ভীর করে বলল, ‘‘পূর্ব শহরের পরিস্থিতি খুব খারাপ, সংস্থা ইতিমধ্যে কয়েকজন এ-গ্রেড ভূত-শাসক আর জাগ্রতকে পাঠিয়েছে, সবাই সমস্যায় পড়েছে...’’
‘‘গ্রেডিং ব্যাপারটা কী? ভূত-শাসক, জাগ্রত মানে?’’
‘‘গ্রেড নির্ধারিত হয় অশরীরী ঘটনার ভয়াবহতার ভিত্তিতে, ডি থেকে শুরু করে এস পর্যন্ত বাড়ে। যেই কোনো ঘটনায় ভূতের ক্ষেত্র তৈরি হয়, সেটাই এ-গ্রেড, এখন পূর্ব শহর ওই ভূতের ক্ষেত্রেই ঢাকা...’’
‘‘ভূতের ক্ষেত্র কী?’’ আ সেন কৌতূহলে জিজ্ঞেস করল।
‘‘সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, সব ভয়ঙ্কর ভূতেরই আছে হত্যার নিয়ম, সাধারণ মানুষও যদি নিয়মটা বুঝে নেয়, বেঁচে থাকার সুযোগ থাকে!
কিন্তু ভূতের ক্ষেত্রের মধ্যে সব নিয়ম অকার্যকর!’’

(পাঠকদের অনুরোধ, দয়া করে মূল ওয়েবসাইটে গিয়ে বইটি সমর্থন করুন, বইপ্রেমীদের গ্রুপ: ৭৩২৩০১০৭৯, সবাইকে স্বাগতম!)