ত্রিশ তৃতীয় অধ্যায় লেনদেনের আনন্দ

রক্তিম কুয়াশার অধিপতি নয় মাইল দীর্ঘ রাস্তা 1640শব্দ 2026-03-06 08:50:59

......
তথ্যর তালিকাটি মুঝে অভিভূত করে দিল।
‘নিশ্চয়ই, বহুদিনের দারিদ্র্য আমার কল্পনাকে সীমিত করেছে...’
সে উল্টে-পাল্টে তিনবার তালিকাটি দেখে নিল।
‘জীবনযাপনের সরঞ্জাম একশো সেট, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বিশটি, সাইলেন্সড পিস্তল দশটি, গুলির জন্য পঞ্চাশ ইউনিট আলাদাভাবে সংযুক্ত, আর বাড়তি হিসেবে এম-৮২-এ-ওয়ান স্নাইপার একটি, এই দামে আপনি সন্তুষ্ট তো?’
সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
আমাকে সন্তুষ্ট কিনা জিজ্ঞেস করা হচ্ছে?
এ যে একেবারে অবিশ্বাস্য কথা! যেন সম্পদে ডুবে থাকা এক অমানবিক প্রস্তাব!
এই মুহূর্তে মুঝের মনে শতভাগেরও বেশি সন্তুষ্টি, সাধারণত সে ঠাণ্ডা মাথায় থাকে, কিন্তু এমন বিলাসবহুল তালিকার সামনে তার মনও কেঁপে উঠল।
উত্তেজনা দমন করে, সে ভাবল, লেনদেনের মূল বিষয় অস্ত্রই হবে, সেটা অনুমান করাই যায়।
‘যদি আরও কিছু দাস নিয়োগের টোকেন পাওয়া যেত, ভালো হতো।’ শান্ত হয়ে মুঝে বুঝতে পারল তার নিজের অঞ্চলের সীমাবদ্ধতা।
এখনও তার দরকার উপকরণ সংগ্রহ করা, অঞ্চলকে দ্রুত উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া, কিন্তু হাতে জনবল খুবই কম।
মাথা ঝাঁকিয়ে সে এসব সমস্যা আপাতত সরিয়ে রাখল, কারণ দর-কষাকষির সময় এসব চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কথা বলাই যায়।
মুঝে গভীর চিন্তায় ডুবে গেল সম্ভাব্যতা পয়েন্ট নিয়ে।
তার মানসিক মান দশে পৌঁছনোর পর শরীরে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা আজও তার কাছে রহস্য।
আঁধো-আঁধো মনে আছে, ইঙ্গিত এসেছিল, যখন যেকোনো একটি গুণাবলী দশে পৌঁছায়, তখন শরীরে এক মৌলিক পরিবর্তন ঘটে।
তবে এই বিবর্তনের সুযোগ প্রতিটি দশ-পয়েন্টের গুণাবলীতে মাত্র একবারই আসে।
বিবর্তনের আগে-পরে পার্থক্য আকাশ-পাতাল।
তাই শুরুতে নিজের শক্তির দিকেই সম্ভাব্যতা পয়েন্ট বাড়ানো সবচেয়ে ভালো, যাতে দ্রুত নিজের অন্তর্নিহিত প্রতিভা বা দক্ষতা খুলে যায়।
......

......
শেষ পর্যন্ত সে সম্ভাব্যতা পয়েন্ট তিনটি মূল বিভাগে ভাগ করে নিল।
মানসিক দিক, শারীরিক দিক, এবং দক্ষতার অগ্রগতির দিক।
যেমন, মানসিক মান দশে পৌঁছালে মানসিক প্রতিভা বা দক্ষতা জন্ম নেয়, কিন্তু শারীরিক মান দশে উঠলে আর কোনো প্রতিভা বা দক্ষতা পাওয়া যায় না।
উল্টোটা একইভাবে প্রযোজ্য।
দক্ষতা বিকাশের দিকে, তখন সে নিজের প্রথমবার কীভাবে অগ্রগতি করেছিল, সেই অভিজ্ঞতাটি তথ্যের আকারে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করল।
নিজের সংকলিত তথ্যের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুঝে সবকিছু মিলিয়ে নিল।
‘তুমি মনে করো, সম্ভাব্যতা পয়েন্ট সম্পর্কিত তথ্য যথেষ্ট সম্পূর্ণ হয়েছে, ওদের দলের বিশ্লেষণ ক্ষমতা অনুযায়ী, কিশোর বয়সের ইতিহাস না থাকলেও, ওরা নিশ্চয়ই বুঝে নেবে এরপর কী করতে হবে।’
‘উঁহু।’
মুঝে মনে করে না তার দেয়া তথ্য অপ্রয়োজনীয়,毕竟 এটাই তো প্রথমবারের মতো ওদের সঙ্গে তার লেনদেন।
সব গোছানোর পর সে নিজেই চাওয়া জানাল।
‘আরও দশটি দাস নিয়োগের টোকেন চাই, সমস্যা না হলে এখনই তোমার চাওয়া সম্পূর্ণ তথ্য পাঠাতে পারি।’
তথ্য পাঠানোর দশ সেকেন্ডও কাটেনি,
‘মেনে নিলাম।’
মুঝি-শরতের উত্তর এবার অস্বাভাবিক দ্রুত, বোঝা যায় এই মুহূর্তে সে-ও ব্যক্তিগত বার্তায় নজর রাখছে।
......
দু’পক্ষই বোঝাপড়ায় এল, কে আগে ‘পণ্য’ পাঠাবে, সে প্রসঙ্গে কেউ কিছু বলল না।
এই সময় মুঝে বিস্তারিত রিপোর্ট আগে পাঠিয়ে দিল।
ওদের তুলনায়, তার কাছে তো আসলে হাতছাড়া করার মতো জিনিস নেই, কে আগে লেনদেন করবে, সে নিয়ে তার কোনো সংকোচও নেই।
বিশ্ব চ্যানেলে প্রায়ই ব্লু-প্রদেশের সামরিক অঞ্চলের বেঁচে যাওয়া সদস্যদের কথা ভেসে আসে, এতেই বোঝা যায় ওদের বড় শক্তি আছে, মুঝে বিশ্বাস করে যে ওরা প্রতারণা করবে না।

যদিও প্রতারণা করলেও, তার কোনো বড় ক্ষতি হবে না।
তথ্য পাঠানোর পাঁচ মিনিট পর।
মুঝে ব্যক্তিগত বার্তায় একটি লেনদেন অনুরোধ পেল, উদ্যোগটা নিল মুঝি-শরত।
লেনদেনের জানালায় একটির পর একটি জিনিস দেখে মুঝের মনে একেবারে নিশ্চিন্তি এল, তবে নিজের লেনদেন জানালায় কিছুই না দেখে হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল, ব্যাগ থেকে এক বোতল বিয়ার বের করে রাখল।
‘২০টি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল পাওয়া গেল, ব্যাগে সংরক্ষিত।’
‘১০টি সাইলেন্সড পিস্তল পাওয়া গেল, ব্যাগে সংরক্ষিত।’
‘১টি এম-৮২-এ-ওয়ান স্নাইপার পাওয়া গেল, ব্যাগে সংরক্ষিত।’
‘১০টি দাস নিয়োগের টোকেন পাওয়া গেল, ব্যাগে সংরক্ষিত।’
‘১০০ সেট জীবনযাপনের সরঞ্জাম পাওয়া গেল, ব্যাগে সংরক্ষিত।’
‘৫০০টি ৭.৬২মিমি গুলি, ৫.৫৬মিমি গুলি...’
মুঝের চোখ দুটো সরু হয়ে এল আনন্দে।
এটাই কি ছোট অস্ত্রের বদলে বড় অস্ত্র পাওয়া? ঠিক যেন নয়, মানায়ও না!
শক্তি হঠাৎ বেড়ে যাওয়া? তাও যথাযথ নয়।
এ তো একেবারে, ‘ফিনিক্সের মতো উড়াল, সোজা আকাশ ছোঁয়া।’
সহজ কথায় বললে, অসাধারণ এক অর্জন!
ওরা এতটা বিশ্বস্ত, তাই বাড়তি কিছু তথ্য দিতে তার কোনো আপত্তি নেই।
ব্যাগ গুছিয়ে মুঝে আরও একটি তথ্য যোগ করল।
‘ফ্রি বোনাস: যার গুণাবলী যত বেশি, মৃত্যুর পর তার থেকে নতুন অভিশপ্ত আত্মা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তত বেশি।’